
হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক
শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা, সমাজকল্যাণে আত্মনিবেদন এবং বহুমুখী প্রতিভার কারণে নিউইয়র্ক প্রবাসী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীকে বলা চলে একজন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও গুণীজন।
শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান:
গ্রামের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তিনি নিজ উদ্যেগে প্রতিষ্ঠা করেছেন:
১. মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
২. আবদুল মতিন খসরু মহিলা ডিগ্রি কলেজ
৩. আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়
৪. মুমু-রোহান কিন্ডারগার্টেন
এছাড়া, কিশোরীদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়তে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “মিজানুর রহমান খান কিশোরী পাঠাগার”।
সমাজসেবায় অসামান্য দান:
ডা. আতাউর রহমান জসিমের উদ্যোগে ব্রাহ্মণপাড়ায় ডায়াবেটিক হসপিটাল প্রতিষ্ঠার সময় মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী নির্দ্বিধায় কোটি টাকার মূল্যমানের জমি দান করেন। বর্তমানে সেখানে ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন।
ধর্মীয় ও নৈতিক উদ্যোগ:
তিনি শুধু শিক্ষায় নয়, ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়নেও সমানভাবে অবদান রেখেছেন। কলেজ পাড়ায় জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের জন্য জমি দান করেন এবং কাজের বাস্তবায়নেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন “আশেদা জোবেদা ফোরকানিয়া মাদ্রাসা”।
গুণীজন হিসেবে স্বীকৃতি:
বাংলা ভাষায় “গুণীজন” বলতে বোঝানো হয় এমন ব্যক্তিকে যিনি জ্ঞান, প্রতিভা ও নৈতিকতায় অনন্য। সেই অর্থে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী নিঃসন্দেহে একজন গুণীজন। তাঁর কাজের গুণাবলি—শিক্ষানুরাগ, সমাজসেবা, এবং প্রজ্ঞা—তাঁকে অনন্য উচ্চতায় স্থান দিয়েছে।
অনুপ্রেরণার উৎস:
প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতি টান, গ্রাম-সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষায় বিনিয়োগ—এসবই তাঁকে একজন আদর্শিক চরিত্র হিসেবে তুলে ধরেছে।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় যদি মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর মতো একজন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও গুণীজন থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশের চেহারা বদলে যেত। তাই আসুন, এমন মানুষদের সম্মান করি, তাঁদের কাজগুলো তুলে ধরি, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করি।
> “গুণীজনদের ভালোবাসুন, সম্মান করতে শিখুন। তাহলেই সমাজে শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও গুণীজনের জন্ম হবে”।