
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজেরা ভেদাভেদ না করে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, “যদি কোনো বিভেদ থাকে, আলোচনা করে ঠিক করবো। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করলে দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।”
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত ফটো এক্সিবিশনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। সেনাবাহিনী একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী, এটিকে সুশৃঙ্খল থাকতে দিন। আমরা ন্যায়নীতি বজায় রাখবো। আমার একটাই লক্ষ্য—জাতিকে সুন্দর জায়গায় রেখে সেনানিবাসে ফিরে যাওয়া।”
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, “আজকে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছে না, কারণ তাদের অনেকেই জেলে। র্যাব, বিজিবি প্যানিকড অবস্থায় আছে। দেশের শান্তিরক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর নয়, আনসার বাহিনীও রয়েছে। মাত্র ৩০ হাজার সেনা সদস্য দিয়ে কীভাবে সব সামাল দেওয়া সম্ভব? আমরা এক অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি, অপরাধীরা এর সুযোগ নিচ্ছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, তাহলে দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। আমি আগেই সতর্ক করছি, পরে যেন কেউ বলতে না পারেন যে সতর্ক করা হয়নি। সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করবেন না। সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কেন, তা জানি না। আমাদের সাহায্য করুন, আক্রমণ নয়।”
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, “আজ একটি বেদনাবিধুর দিন। সেদিন আমরা ৫৭ জন চৌকস অফিসার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি। আমি সেই বর্বরতার চাক্ষুষ সাক্ষী। এটি কোনো সেনা সদস্য করেননি, তদানীন্তন বিডিআর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা ঠিক হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু সদস্য দাবি করছেন, তারা ২০০৯ সাল থেকে অযাচিতভাবে শাস্তি পেয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যেখানে একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রথম ধাপে ৫১ জন সদস্যের বিষয়ে সুপারিশ এসেছে, যা আমি গ্রহণ করেছি এবং আরও কিছু সংযোজন করেছি। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীও একইভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।”
সেনাপ্রধান শেষ বক্তব্যে বলেন, “যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তাহলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনী একটি ডিসিপ্লিন ফোর্স, এটিকে শৃঙ্খল থাকতে দিন।”