
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইল–১ (৯৩) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আটদলীয় জোটের তিনজন প্রার্থী এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই আসনে এবার পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। মনোনয়ন প্রত্যাশী তিন প্রার্থী হলেন—মাওলানা আব্দুর রহমান (প্রতীক: রিকশা), মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা) ও মাওলানা আব্দুল আজিজ (প্রতীক: হাতপাখা)।
নির্বাচনকে ঘিরে গ্রাম, হাট ও বাজারে বাড়ছে রাজনৈতিক তৎপরতা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র। তাঁদের ভাষ্য, একের পর এক নির্বাচন হলেও নড়াইল–১ আসনের মৌলিক সমস্যাগুলোর দৃশ্যমান সমাধান হয়নি। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় পিছিয়ে আছে এই জনপদ।
এ বিষয়ে মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, নড়াইল–১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। মানসম্মত রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই আসনের উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তির বিষয় নয়। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কাজ করতে পারলেই নড়াইল–১ আসনকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’ তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান।
মাওলানা ওবায়দুল্লাহ কায়সার বলেন, উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা এমন একটি নড়াইল–১ গড়তে চাই, যেখানে মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে, তরুণরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে এবং অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার জন্য দূরে ছুটতে বাধ্য হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
এক বিবৃতিতে মাওলানা আব্দুল আজিজ নড়াইলী বলেন, নড়াইল–১ আসনে এখনো মানসম্মত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কলেজ ও হাসপাতাল থাকলেও কাঙ্ক্ষিত মানের শিক্ষা ও পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেন, ‘অতীতে ভুল নেতৃত্ব নির্বাচনের কারণে এই আসন বারবার পিছিয়ে পড়েছে। এবারও যদি সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে আগামী পাঁচ বছর এই এলাকার মানুষকে একই গ্লানি বহন করতে হবে।’ তিনি ভোটারদের সচেতন ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আটদলীয় জোটের লক্ষ্য হলো নড়াইল–১ আসনকে একটি দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত, নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য জনপদে রূপান্তর করা। যেখানে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতিবাজদের কোনো স্থান থাকবে না। বিভেদ নয়, বরং সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরা হয়।
নেতারা জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পূর্ণ নিরাপত্তা, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নড়াইল–১ আসনকে সম্প্রীতির এলাকায় পরিণত করার অঙ্গীকার করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কালিয়া উপজেলা শাখার সেক্রেটারি হাফেজ মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আটদলীয় জোট থেকে যাকেই চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তাঁকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নড়াইল–১ আসনে উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুশাসনের প্রশ্নই ভোটের প্রধান ইস্যু হয়ে উঠছে। ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে এই এলাকার ভবিষ্যৎ পথচলা।