
দুমকি ও পবিপ্রবি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হোসাইন মোহাম্মদ আসিফের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ—জরুরি মুহূর্তে হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সেবা না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা পাননি আসিফ, যার ফলে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন জনতা কলেজ মাঠে ফুটবল খেলার পর আসিফ তার বন্ধুদের সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে যান। একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যান তিনি। বন্ধুরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রায় ৪০ মিনিট পর্যন্ত জরুরি বিভাগ ও আইসিইউতে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এত দেরিতে চিকিৎসা শুরুর পর শেষমেশ সন্ধ্যার কিছু আগে আসিফকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তেই হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. হেমায়েত জাহান জানান, “আমরা নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।”
এদিকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন পবিপ্রবির উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ খালেদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।