1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলের কালিয়ায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষ উদযাপন যশোরে অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত ৮ জন গ্রেপ্তার মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার খুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিয়ে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা পহরডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান কাবুল বিশ্বাস হারানো সরকারি অস্ত্রের খোঁজে র‍্যাব, তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার নড়াইলের চরেরঘাটে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেপ্তার শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ‘ক্রসফায়ার’ নয়, আইনের পথেই সন্ত্রাস দমন: আইনমন্ত্রী

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীদের আন্দোলন অব্যাহত

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০২৪
  • ১১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

 

ওয়াহিদ মুরাদ স্টাফ রিপোর্টার

 

বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরে গত মে মাস থেকে একযোগে আন্দোলন করছে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বর্তমানে তাদের কর্ম বিরতিসহ সভা সমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলন চলছে লাগাতার। একইসঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা যাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো ফলাফল না আসায় আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী।

তাদের মূল সংকট দেখা দিয়েছে তাদের মাদার প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড( আরইবি) এর সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সংকট চলে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই ছিলেন উদাসীন। যার ফলে এখন সেটি আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। সারা বাংলাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪০ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীর দাবি-

১। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (BREB) এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একীভূতকরণসহ অভিন্ন সার্ভিস কোড বাস্তবায়ন।

২। সকল চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ।

বর্নিত দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে টানা ১০ম দিনের কর্ম বিরতি চলমান রেখেছে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। তারই ধারাবাহিকতায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য নিরসন, অভিন্ন চাকরি বিধি ও চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে।

১০ম দিনে বুধবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদর সদর দপ্তর চত্বরে সকল জোনাল অফিস, এরিয়া অফিস, সাব জোনাল অফিস এবং অভিযোগ কেন্দ্র থেকে আগত কর্মকর্তা কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে কর্মবিরতি পালন করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রকার স্লোগান দিয়ে এলাকাটি প্রকম্পিত করে তোলেন।

তারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে স্থায়ী নিয়োগ প্রদান, অভিন্ন চাকরি বিধি প্রদান ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে নানান স্লোগান দেন। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ণ বোর্ডকে বয়কটেরও ঘোষণা দেন তারা। যৌক্তিক এসব দাবি মেনে নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন আন্দোলনকারীরা। যতদিন পর্যন্ত দাবি মেনে নেওয়া না হবে, ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ণ বোর্ড কর্তৃক নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহেরও অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা। যার ফলে উত্তম গ্রাহক সেবা দিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীদের বলে অভিযোগ করেন তারা।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম বিদ্যুৎ মল্লিক বলেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিনে স্থায়ী অস্থায়ী ৪৫টি পদ রয়েছে। একই পদে স্থায়ী, অস্থায়ী ও দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে কাজ করছেন অনেকে। যেমন লাইন ম্যান পদে স্থায়ী, অস্থায়ী ও দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে অনেক কর্মচারী রয়েছে, আবার বিলিং সহকারী পদেও একই ধরণের কর্মচারী রয়েছে। এর ফলে কাজের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। কাজের উৎসাহও নষ্ট হয়। গ্রাহকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একই ধরণের চাকুরী বিধিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান এই কর্মকর্তা।

কাজ নাই, মজুরি নাই এরকম শর্তে নিয়োগ প্রাপ্ত বিলিং সহকারী পদে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে অনেক কর্মচারী রয়েছেন। তাদেরই একজন লাভলি আক্তার বলেন, পাশাপাশি টেবিলে বসে একই সময়ে একই ধরণের কাজ করি, কিন্তু কেউ কেউ আছেন যারা বেতনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা পায় আর আমরা কাজ না করলে কোন বেতন তো পাই না,আবার চাকুরীর ক্ষেত্রে কোন সুবিধাও পাই না। অতিদ্রুত এসব বৈষম্য নিরসনের দাবি জানান এই বিলিং সহকারী।

মিটার রিডার আতাউর রহমান বলেন, ৯ বছর পর পর আমাদের এক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে অন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে স্থান পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু চাকুরী স্থায়ী হয় না, চাকুরীর কোন সুযোগ সুবিধাও আমাদের দেওয়া হয় না। যতদিন পর্যন্ত এসব বৈষম্য নিরসন করে, সকল দাবি মেনে নেওয়া না হবে ততদিন পর্যন্ত রাজ পথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন এই কর্মচারী।

আন্দোলরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, গ্রাহক সেবা যাতে বিঘ্নিত না হয় সে দিকটায় তারা অত্যন্ত সতর্ক রয়েছেন। তারা আরো বলেন, “গ্রাহক সেবা অব্যাহত রেখেই আমরা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি এবং যতদিন পর্যন্ত আমাদের এই দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া না হবে ততদিন আমাদের এই আন্দোলন চলতে থাকবে।”

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর উপস্থিতিতে আন্দোলনের দশম দিনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন- সকল ডিজিএম, এজিএম বিদ্যুৎ মল্লিকসহ অন্যান্য এজিএম গন, সহকারি জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রাজিবুল ইসলাম সবুজ, লাইন টেকনিশিয়ান মশিয়ার রহমান, লাইন টেকনিশিয়ান শওকাত হোসেন,লাইন শ্রমিক হাসিব, পিসিএম মনিরুজ্জামান, চুক্তিভিত্তিক বিলিং সহকারী লাভলী আক্তার, চুক্তিভিত্তিক মিটার রিডার আতাউর রহমানসহ আরো অনেক কর্মকর্তা কর্মচারী।

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park