
“শখের তোলা আশি টাকা”—এই প্রবাদটির এক জীবন্ত উদাহরণ ছিলেন সিরাজগঞ্জের দেলোয়ার হোসেন মিঞা। শখের মূল্য দিতে গিয়ে তিনি যা করলেন, তা ইতিহাসে বিরল।
ঘটনাটি ১৯৬৫ সালের। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন মিঞা পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে একটি রেডিও কেনেন। শুধু তাই নয়, সেই রেডিও চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাটারি কেনার জন্য আরও এক বিঘা জমি বিক্রি করতে হয় তাঁকে।
শখের মূল্য চুকিয়ে অভাবের তাড়নায় সাত বছর পর, ১৯৭২ সালে, সেই রেডিও ১৮০ টাকায় বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন দেলোয়ার মিঞা। এর আগেই ১৯৬৯ সালে বিক্রি করতে হয়েছিল নিজের বসতভিটাও।
তাঁর ছেলে আলতাফ হোসেন বাবার স্মৃতি হিসেবে ৫০ বছর পর ২০২২ সালে সেই রেডিও আবার ফিরে আনেন। তবে রেডিও ফেরত পেলেও বাজানোর সামর্থ্য নেই তাঁর। কারণ, এটি চালাতে একসঙ্গে আটটি ব্যাটারি লাগে, যার দাম প্রায় ৪০০ টাকা। বিদ্যুতে চালাতে হলে নিতে হবে মিস্ত্রির কাছে, কিন্তু সেই সামর্থ্যও নেই তাঁর।
গ্রামের মানুষরা আজও মনে করেন, দেলোয়ার মিঞার শখ ছিল অন্যরকম। স্থানীয় নির্মাণশ্রমিক হাবিবুর আলী শেখ বলেন, “পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে রেডিও কিনে আনার পর শত শত মানুষ এসে ভাষণ শুনেছেন, গান শুনেছেন। তখন এটা এক বিরল ঘটনা ছিল।”
৫০ বছর পর বাবার সেই রেডিও ফেরত পেতে আলতাফ হোসেনকে কম কষ্ট করতে হয়নি। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে স্থানীয় আমজাদ খন্দকারের কাছ থেকে অনুনয় করে তিনি এটি ফেরত আনেন। কিন্তু আজও সেটি বাজাতে পারেননি।
একটি শখ কীভাবে একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দিতে পারে, দেলোয়ার মিঞার জীবনের গল্প তারই প্রতিচিত্র। তবু ভালোবাসা রয়ে গেছে একটি রেডিওর প্রতি, যা একসময়ের আনন্দের প্রতীক ছিল।