
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: নিজাম উদ্দীন
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক ও জনবিশ্বাসে পরিপূর্ণ পাগলা মসজিদ এবার প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আরও আধুনিক রূপ পেল। আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় পাগলা মসজিদ প্রাঙ্গণে ওয়েবসাইট www.paglamosque.org–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান।
ওয়েবসাইট উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক নিজেই অনলাইনে DONATE NOW অপশনে গিয়ে মুঠোফোনের মাধ্যমে ৫ হাজার ৪০০ টাকা দান করেন। নতুন এই সাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই পাগলা মসজিদে অর্থসহ বিভিন্ন অনুদান প্রদান করা যাবে। বিকাশ, নগদ, রকেটসহ যেকোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করে যে কেউ ৫০, ১০০, ৫০০, এমনকি যেকোনো পরিমাণ অর্থ সহজেই দান করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, “ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ শুধু কিশোরগঞ্জ নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের অংশ। এখানে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মানুষ দান করতে আসেন। দানসিন্দুক খুললেই পাওয়া যায় কোটি কোটি টাকা। সময়ের দাবি ও মানুষের সুবিধার্থে এবার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঘরে বসেই দান করার সুযোগ চালু করা হলো।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন পাগলা মসজিদের খতিব মাওলানা আশরাফ আলী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুকিত সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, মসজিদ কমিটির সদস্যসচিব ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার মুহতামিম মাওলানা শাব্বির আহমাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার প্রমুখ।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও উন্নয়ন পরিকল্পনা
কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদ দেশের অন্যতম বিখ্যাত দানকেন্দ্রিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বহু বছর ধরে মানুষের বিশ্বাস, “খাস নিয়তে এখানে দান করলে মনের আশা পূর্ণ হয়।” ফলে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ এখানে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, এমনকি বিভিন্ন সামগ্রী দান করে থাকেন।
মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রাপ্ত দান অর্থ দিয়ে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স। ছয়তলা বিশিষ্ট মূল মসজিদ ভবনে প্রতি তলায় একসঙ্গে ৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। নারীদের জন্য থাকবে আলাদা নামাজঘর। সবমিলিয়ে ৪০ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই আধুনিক স্থাপনায় থাকবে একাডেমিক ভবন, ধর্মীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অতিথিশালা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের থাকার জন্য সংরক্ষিত কক্ষ।
পাগলা মসজিদের নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এবার দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত মুসলমানরা ঘরে বসেই এই পবিত্র স্থানে অবদান রাখতে পারবেন, যা একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।