
হাফিজা খানম স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে পুলিশের উপস্থিতির মাঝেই ছাত্রলীগ–যুবলীগের মিছিল বের হওয়াকে কেন্দ্র করে এক উপ–পরিদর্শককে (এসআই) ক্লোজড করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বাসাইল ইউনিয়নের ইমামগঞ্জ বাজার এলাকায়। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের আকস্মিক শক্তি প্রদর্শন ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া—দুটি বিষয়ই এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই সকালে সিরাজদিখান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম লিটুর নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থিত নেতাকর্মীরা ইমামগঞ্জ বাজার থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি হওয়ার কথা ছিল আকস্মিকভাবে, তবে সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের গাড়ি থামার আগেই মিছিলকারীরা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গলি ও পাশের সড়কে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করে—মালখানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মকবুল হোসেন দেওয়ান (৫৪), সোহেল শেখ (৩৫) এবং মন্টু ভুঁইয়া (৩০)। আটক হওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং মিছিলে তাদের উপস্থিতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, মিছিলের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলকারীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মো. কামরুজ্জামান মিছিলকারীদের আটকে ব্যর্থ হন। এ কারণে তাকে ক্লোজড করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ কিছুটা বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রশাসনের চোখের সামনে এমন মিছিল হওয়া এবং পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া—উভয়ই নজিরবিহীন। তবে পুলিশ দাবি করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের অবস্থান কঠোর থাকবে।
এদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে, হঠাৎ করে মিছিল ডাকার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কেন তা পুলিশের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে গেল। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের মিছিল বা সমাবেশ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।