
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নৌবন্দর বড়দিয়া এবং লোহাগড়া উপজেলার মহাজনবাজার ঘাট সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে প্রায় তিন বছর আগে শুরু হয়েছিল ফেরী চলাচলের উদ্যোগ। কিন্তু বাস্তব চিত্র এখনো আগের মতোই। দুপারের হাজারো মানুষ আজও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে, কারণ ফেরী চালু হলেও তা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।
২০০ বছরের পুরনো এই নৌবন্দর ঘিরে গড়ে উঠেছে অন্তত ২৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি কলেজ, এবং অসংখ্য ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ, যানবাহন ও পণ্য চলাচল করে এই পথে। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, ইজারাদারদের সুবিধা, সড়ক বিভাগের উদাসীনতা এবং প্রশাসনের দুর্বল নজরদারির ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ ফেরীঘাট এখন যেন উপহাসের নামান্তর।
প্রায় এক বছর আগে বড় ঘটা করে চালু করা হয় ফেরীটি। কিন্তু বাস্তবে ফেরী চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর, যখন গাড়ি পূর্ণ হয় তখন। যাত্রীদের অভিযোগ, “গরু-ছাগল, ধান-চাল, ভ্যান কিংবা মোটরসাইকেল—সবই আগের মতো বাঁশের সাঁকো বা ট্রলারে ঝুঁকি নিয়েই পার হচ্ছে। তাহলে এই ফেরী চেয়ে কী লাভ হলো?”
ঘাটটি ইজারা ছাড়াই দীর্ঘদিন চলে আসছে কথিত ‘ঘাট মালিকদের’ নিয়ন্ত্রণে। ইজারা কিংবা সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সাংবাদিকদের প্রতি হুমকি ও চড়াও হওয়াও ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, “ইজারাদারদের সুবিধার জন্যই পরিকল্পিতভাবে ফেরী কার্যকরভাবে চালু করা হচ্ছে না।”
বড়দিয়া-মহাজন ঘাটে নিয়মিত ফেরী চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইজারাদার চক্রের প্রভাব দূর করে সরকারি তত্ত্বাবধানে আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
প্রশ্ন উঠছে, “সরকারি পদক্ষেপ কি সব সময়ই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকবে? নাকি নিয়ম শুধু কিছু সুবিধাভোগীর জন্যই তৈরি হয়?”
বড়দিয়া ফেরীঘাটকে কার্যকর করতে হলে অবিলম্বে ফেরী ব্যবস্থাপনার সংস্কার, সরকারি মনিটরিং এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। নইলে ফেরী চালু হলেও চলবে না মানুষের দুর্ভোগ।