
চৌধুরী জুয়েল রানা স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইলের নড়াগাতী থানার টোনা গ্রামের নাসির সরদার নামে এক রেমিট্যান্স যোদ্ধা একই গ্রামে শশুর কুলে টাকা পাঠিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন। স্ত্রী, শাশুড়ী ও শ্যালকদের কাছে পাঠানো টাকায় তারা নিজেদের আখের গুছিয়ে বঞ্চিত করেছে নাসিরকে। দেশে এসে টাকার হিসাব চাইলে শ্যালকদের হাতে মিথ্যা মামলা ও মারপিটের শিকার হয়ে মামলা করায় নিজ বাড়ীতে উঠতে পারছেন না তিনি। নাসির সরদার ওই গ্রামের মৃত আবুল কালাম সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় ১৯ এপ্রিল (শুক্রবার) রাত ৮ টার দিকে নড়াগাতী বাজার সংলগ্ন একটি ঘরে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ভুক্তভোগী নাসির সরদার।

সংবাদ সম্মেলনে এ রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলেন, আমি ২০ বছর যাবত সৌদি প্রবাসী। ওখানে আমি ম্যান পাওয়ারের ব্যবসাসহ ৪ টি দোকান ছিল। স্ত্রী সন্তানদের ভালো রাখতে আমার সমস্ত ইনকাম আমার স্ত্রী, শাশুড়ী ও ২ শ্যালক রুবেল ও মামুনকে দেই। ওই টাকায় তারা গ্রামে ৩ একর ও খুলনা শহরে ৫ শতক জমি ক্রয় করেছে বলে জানায়। বিগত ৯ মাস আগে দেশে এসে জমির দলিল ও টাকার হিসাব চাইলে তারা গড়িমসি করে। পরিশেষে জানতে পারি আমার স্ত্রী বন্যা বেগম ও তার পুলিশে চাকুরীরত ভাই রুবেল ও মামুনের নামে দলিল হয়েছে, কোথাও আমার নাম দেওয়া হয়নি। অতঃপর ঈদের দিন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে ঈদের ছুটিতে থাকা পুলিশ চাকুরিরত শ্যালক রুবেল সরদার ও তার ভাই মামুনসহ ৪/৫ জনের সন্ত্রাসী দল আমার প্রাইভেট কার ভাংচুর করে আমাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে এবং কাছে থাকা বিয়ে বাড়ীর উপহার একটি স্বর্ণের হার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

আমি গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে নড়াগাতী থানায় মামলা দায়ের করি। এই মামলা করার কারণে আমার শশুর কুলের দেওয়া হত্যার হুমকিতে আমি নিজ বাড়ী ছেড়ে আত্মগোপনে আছি। আমি একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসাবে সরকার তথা প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দাবি করছি।