
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনা রেঞ্জের নবনিযুক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রশ্ন করার সুযোগ না দেওয়া এবং ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে সভা বর্জন করে বেরিয়ে গেছেন খুলনার সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ডিআইজির বক্তব্য পেতে ভোগান্তির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের অভিযোগ, মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলেও তাঁদের প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে কিংবা বক্তব্য তুলে ধরতে চাইলে তাঁদের থামিয়ে দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা সভা বর্জন করে চলে যান।
সাংবাদিকদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধপ্রবণতা, পুলিশের কার্যক্রম এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা গণমাধ্যমের পেশাগত দায়িত্ব। সেখানে প্রশ্ন করার সুযোগ না থাকলে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাঁদের মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন তোলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সারোয়ার বলেন, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে, অথচ প্রশ্ন করা যাবে না, এটি কোনো যৌক্তিক কথা হতে পারে না। সাংবাদিকরা কোন সভায় যোগ দেবেন, কী প্রশ্ন করবেন বা কী কথা বলবেন, তা নির্ধারণ করে দেওয়া কিংবা ক্যামেরার সামনে একজন সরকারি কর্মকর্তার কথা বলতে না পারার মতো পরিস্থিতি নতুন সৃষ্টি হলো।’ এ কারণে তিনি নিজেসহ অন্য সাংবাদিকদের সভা বর্জন করে ফিরে যাওয়ার কথা জানান।
এদিকে ডিআইজির বক্তব্য পাওয়া নিয়েও সমস্যার কথা জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন, খুদে বার্তা ও সাক্ষাতের অনুরোধ করেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ করা হলে হোয়াটসঅ্যাপে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে তাঁদের দাবি। ডিআইজি সাক্ষাৎকার দেবেন না বলেও জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সাংবাদিকদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের বক্তব্য প্রয়োজন হতে পারে। তবে আন্তজেলা অপরাধ, সমন্বিত অভিযান, বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রেঞ্জ পুলিশের সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে ডিআইজির বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া না গেলে সংবাদ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।
খুলনায় অপরাধ ও জননিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন ঘটনা সামনে আসার প্রেক্ষাপটে পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গণমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সাংবাদিকেরা। তাঁদের মতে, পুলিশের সঙ্গে গণমাধ্যমের নিয়মিত যোগাযোগ ও তথ্য বিনিময় থাকলে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ সহজ হয় এবং পাঠকেরাও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে পারেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. রেজাউল করিম। দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে এ সভার আয়োজন করা হয়। তবে সভায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাঁদের ভূমিকা পরিচয়পর্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের সরকারি নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।