আজ পৃথিবীর মানচিত্রে যদি সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, নিপীড়িত, রক্তাক্ত কোনো জাতির নাম লেখা হয় — তাহলে সেটা ফিলিস্তিনের মুসলমান। একদিকে ইসরায়েলের নিষ্ঠুর বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান — অন্যদিকে নিরস্ত্র নারী, শিশু, বৃদ্ধ আর নিষ্পাপ জনগণ। পৃথিবীর সামনে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে গণহত্যা চলছে — কিন্তু বিশ্ব শক্তিগুলো নীরব দর্শক!
পৃথিবীর মানবাধিকার সংগঠনগুলো, জাতিসংঘ, ইউরোপ-আমেরিকার নেতারা কেবল মুখে শান্তির কথা বলে, সভা-সেমিনার করে, বিবৃতি দেয় — কিন্তু ফিলিস্তিনের মানুষের রক্তের দাম তাদের কাছে শূন্য! হাজার হাজার শিশু গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে নিথর হয়ে পড়ে থাকে, অথচ বিশ্ব বিবেক চুপ!
ইসরায়েল ফিলিস্তিনের ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ, বাজার, সাংবাদিকদের অফিস — কিছুই রেহাই দেয় না। প্রতিদিনের হত্যাকাণ্ড যেন এক নির্মম উৎসব। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন জঘন্য বর্বরতা খুব কমই দেখা গেছে, যা আজ ফিলিস্তিনের উপর চলছে।
সবচেয়ে লজ্জার বিষয় — মুসলিম বিশ্বের নেতাদের নিরবতা। তারা নিজেদের সিংহাসন বাঁচাতে ব্যস্ত, তেল-বাণিজ্য আর ক্ষমতার রাজনীতির খেলায় মগ্ন। ফিলিস্তিনের মা-বোনদের আর্তনাদ তাদের কানে পৌঁছে না।
আজ যদি ফিলিস্তিনের পাশে আমরা না দাঁড়াই, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। এক ফিলিস্তিন আমাদের জন্য এক পরীক্ষার নাম — মানবতার, মুসলিম উম্মাহর, ন্যায়-অন্যায়ের পরীক্ষার নাম।
আজ ফিলিস্তিনের রক্ত ঝরছে — কাল যদি সেটা আমাদের ঘরে পৌঁছে যায়, তখন প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পাবে না এই নীরব পৃথিবী।