
নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর এলাকায় ভৈরব নদের তীরে গড়ে উঠেছে পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ কৃত্রিম কয়লা তৈরির কারখানা। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চুল্লিগুলোতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৫০–৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এতে নদী ও আশপাশের জনবসতি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দামোদরের ভৈরব নদ তীর ঘেঁষেই একাধিক কয়লা চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এই কার্যক্রম অবাধে চলছে। স্থানীয় বনজঙ্গল ও বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠ কেটে এনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় চুল্লিতে পুড়িয়ে কৃত্রিম কয়লা তৈরি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চুল্লির অব্যাহত জ্বালায় এলাকাটি প্রায়ই কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে। ধোঁয়া ও পোড়া কাঠের গন্ধের কারণে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভোগছেন শিশু ও প্রবীণরা। এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নদীর তীরে এমন অবৈধ কার্যক্রমের কারণে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি।”
পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের অবাধ কাঠ পোড়ানোতে ব্যাপক পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া ভৈরব নদে পানি দূষণ ও জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছে। নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, অবিলম্বে এই অবৈধ কয়লা চুল্লি উচ্ছেদ করে পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশ বিপর্যয়ের দায় ফুলতলাবাসীকে বহন করতে হবে।