
বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যামেরার ক্লিকে—ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক অ্যালবাম ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী নিঃসন্দেহে সমসাময়িক ইতিহাসের এক নির্ভরযোগ্য চিত্ররূপ। আমি এই ঐতিহাসিক স্মারক প্রকল্পের আর্কাইভ ও তত্ত্বাবধানে যুক্ত থাকতে পেরে নিজেকে গর্বিত ও ধন্য মনে করি।
গত দেড় দশকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও গণতন্ত্রপন্থী শক্তির ওপর যে বর্বর দমন-পীড়ন, গুম, খুন, নির্যাতন ও হয়রানির এক দীর্ঘমেয়াদি ধারা চলেছে—তা সাহসী ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরার ক্লিকে এই অ্যালবামে রূপ পেয়েছে এক অকাট্য ঐতিহাসিক প্রমাণ হিসেবে। এই অধ্যায় বারবার আমাদের মনে করিয়ে দেয়—গণতন্ত্র কখনো কারো দয়ার দান নয়; এটি অর্জিত হয় রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে।
এই উপলক্ষে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, বিএম বাকির হোসেনকে। তিনি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের যুগ্ম মহাসচিব। ১/১১-এর পরবর্তী ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের সময় রাষ্ট্রীয় হেফাজতে কারাগারে তিনি নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল না; ছিল পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। বারবার চেষ্টা করেও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলাও রেকর্ড করা যায়নি। বিচার তো দূরের কথা।
বিএম বাকির হোসেনের জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছিল সংগ্রাম, মামলা, কারাবরণ ও নির্যাতনে পরিপূর্ণ। তিনি ১১ বছর জেল খেটেছেন। ১৯৯৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল ২৭টি মিথ্যা মামলা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আরও চারটি মামলা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। কিন্তু সমস্ত নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি আপসহীন থেকে সত্য ও আদর্শের পথে অটল ছিলেন। তাঁর রক্তও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মাটিতে রোপিত হয়েছে হাজারো শহীদের রক্তের সঙ্গে।
এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ও গণজাগরণে নিরন্তর ভূমিকা রেখেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর বিচক্ষণ ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, নেতৃত্ব পেয়েছে ৩৬ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে। সেই ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে, এবং শেখ হাসিনা বাধ্য হন ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগ করতে।
এই ফটো আর্কাইভ ও স্মারক অ্যালবামের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে সেই অন্ধকার সময়ের ইতিহাস—গুম, খুন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের গৌরবগাথা। এই উদ্যোগ শুধু স্মরণ নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতারও দলিল।
আমি এই উদ্যোগের সার্বিক সফলতা কামনা করছি এবং এতে যুক্ত থাকা সকল সাহসী ও প্রতিশ্রুতিশীল ফটোসাংবাদিকদের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
অধ্যাপক বিএম নাগিব হোসেন
আর্কাইভ ও সার্বিক সমন্বয়কারী
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিএম বাকির হোসেন স্মৃতি সংস্থা