
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এস. এম. সাইফুজ্জামানকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক আলোচনা সভায় মারধর করা হয়েছে। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে নড়াইল পৌর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া এনসিপির জেলা সমন্বয় কমিটির কয়েকজন সদস্য চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামানকে কিল-ঘুষি মারেন। আত্মরক্ষার্থে তিনি পাশের কক্ষে আশ্রয় নেন। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, সাইফুজ্জামান “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী” এবং এমন ব্যক্তিকে এনসিপির কমিটিতে রাখা যাবে না।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবারের এনসিপি আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রধান সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল এম. শাব্বির আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মাহমুদা সুলতানা রিমি। সভার একপর্যায়ে সাইফুজ্জামানের নাম জেলা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে কয়েকজন সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন মঞ্চে উঠে এসে তাঁকে মারধর করেন। পরে তিনি পাশের কক্ষে আশ্রয় নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।
সদরের পলইডাঙ্গা গ্রামের জুলাইযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম বলেন, “চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং দীর্ঘদিন দলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। তাঁর মতো সুবিধাভোগীকে এনসিপির দলে রাখার সুযোগ নেই। তাঁকে অবিলম্বে কমিটি থেকে বাদ দিতে হবে।” এ বিষয়ে চেয়ারম্যান এস. এম. সাইফুজ্জামান বলেন, “আমি পাঁচগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। আমাকে পরিকল্পিতভাবে অপমান ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”
এনসিপির জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানের বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না, তাই উপস্থিত ছিলাম না।” জেলা প্রধান সমন্বয়কারী এম. শাব্বির আহমেদ বলেন, “সভায় অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হবে।”
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জুন এনসিপির ২১ সদস্যবিশিষ্ট নড়াইল জেলা কমিটি অনুমোদন করা হয়। এতে এম. শাব্বির আহমেদকে প্রধান সমন্বয়কারী এবং শরিফুল ইসলামকে যুগ্ম সমন্বয়কারী করা হয়। কমিটি অনুমোদন দেন দলের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ।