
হারুন শেখ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে—বাগেরহাটের রামপালে আদালতের রায় পাওয়ার পরও এক অসহায় পরিবার বারবার ভূমিদস্যুদের হামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। চার দশক ধরে চলমান জমি বিরোধের এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আদালতের রায় পাওয়ার পরও ভূমিদস্যুরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বারবার জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামের মৃত খোরশেদ গাজীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুদের হামলা, জালিয়াতি ও নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দখলকারীরা আবারও জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আদালতের রায় ও জমির সীমা নির্ধারণ
রামপাল সহকারী জজ আদালতের নির্দেশে গত ২৫ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সার্ভেয়ার এডভোকেট গোলাম মোর্ত্তজা সোহেল আহমেদ ও জেলা জজ আদালতের ফোসেস সার্ভেয়ার দেলোয়ার হোসেন ফিরোজ সরেজমিনে গিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করেন। ঢাকঢোল বাজিয়ে স্থানীয়দের সামনে সীমানা চিহ্নিত করা হয় এবং লাল নিশানা টানিয়ে প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সীমানা পরিচিহ্ন মামলা নং- ২৪০/২১ শুরু হয় ২০২১ সালের ৪ অক্টোবর। আদালতের রায় অনুযায়ী, ১৪৫ নম্বর খতিয়ানের অধীনে ১.৭৪ একর জমি রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
আদালতের রায় অমান্য করে দখলের চেষ্টা:;
বিচারিক আদেশ উপেক্ষা করে তাহের গাজীর নেতৃত্বে একটি পক্ষ লাল নিশানা উপড়ে ফেলে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালায়। তাহের গাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আদালতের রায় আমি মানি না, লাল নিশানা মানি না। আমার ভাই কোস্টগার্ডে চাকরি করে, পুলিশ, উকিল, সাংবাদিক, আদালতের নোটিশ আমরা তোয়াক্কা করি না। হাফিজুর যদি জমিতে আসে, তাহলে তাকে এলাকা ছাড়া করে দেবো।”
ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
ভুক্তভোগী গাজী হাফিজুর রহমান বলেন, “২৫ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে আমাদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই বিবাদীরা পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা চালায়। আমি জমিতে গেলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” বিবাদীরা হলেন—বারুইপাড়া গ্রামের মৃত আপতাব গাজীর সন্তান আব্দুল লতিফ গাজী,