
হারুন শেখ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ঝনঝনিয়া চেয়ারম্যান মোড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝনঝনিয়া চেয়ারম্যান মোড়ে একটি মৎস্য আড়ত ও জমিজমা নিয়ে আ. রাজ্জাকের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিক শেখের সঙ্গে আরজ আলী ও তার ভাই মহিদ শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এই বিরোধের জেরে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থিত দুই গ্রুপও পরস্পরের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে লোহার রড, হাতুড়ি, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা-পাল্টা হামলা হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন—আল আমিন (৪০), আজমল শেখ (৪৩), শহিদ ব্যাপারী (৩৬), আবুল কালাম (৪০), বাবুল শেখ (৩৫), শামীম শেখ (২২), আহম্মদ আলী (৪২), ইসমাইল শেখ (৩৫), আশরাফ আলী (৫৫), তাহিদুল ইসলাম (৪০), হোসাইন শেখ (১৮), তারেক শেখ (৩৫), ফারুক হোসেন (৫৫), আবুল কালাম (৩০), মাহিদ শেখ (৫০) প্রমুখ।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বলেন, “আমাদের ১০-১২ জনকে কুপিয়ে ও রড-হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে কয়েকজনের পা ভেঙে গেছে। আমাদের ৭ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমাদের বাড়িঘরও ভাঙচুরের চেষ্টা হয়েছে।”
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, “আমি শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু ভাগার আকো তার অনুসারীদের নিয়ে হামলা চালিয়েছে, রামপাল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সেক্রেটারির বাবার দোকান ভাঙচুর করেছে এবং তার বাবাকে মারধর করেছে।”
রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানান, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ঝনঝনিয়া, চেয়ারম্যান মোড়, ভাগা ও রনসেন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।”