1. admin@naragatirsangbad.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নড়াইলের কালিয়ায় ১৮৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কালিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষ উদযাপন যশোরে অনলাইন বেটিংয়ে জড়িত ৮ জন গ্রেপ্তার মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের প্রস্তুতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার খুলনায় আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিয়ে আইনমন্ত্রীর মতবিনিময় সভা পহরডাঙ্গা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান কাবুল বিশ্বাস হারানো সরকারি অস্ত্রের খোঁজে র‍্যাব, তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার নড়াইলের চরেরঘাটে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জন গ্রেপ্তার শরণখোলায় নিখোঁজের তিন দিন পর স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ ‘ক্রসফায়ার’ নয়, আইনের পথেই সন্ত্রাস দমন: আইনমন্ত্রী

বিদায়ের গভীর বেদনা: মাত্র সাড়ে তিন মাসেই টুঙ্গিপাড়ায় শান্তির ভিত গড়ে গেলেন ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর

নড়াগাতীর সংবাদ ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

 

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধি: মোঃ জসিম মুন্সী

সরকারি চাকরিতে বদলি নিয়মিত প্রক্রিয়া। কিন্তু কিছু বিদায় মানুষের মনে এমন শূন্যতা তৈরি করে, যা সহজে পূরণ হয় না। টুঙ্গিপাড়ার বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর তেমনি একজন কর্মকর্তা—যার বিদায়ে উপজেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। দায়িত্ব পালনের সময়কাল মাত্র সাড়ে তিন মাস হলেও তিনি যে শান্তি, স্থিতি ও নিরাপত্তার ভিত তৈরি করেছেন, তা আজ উপজেলাবাসীর চোখে জল এনে দিয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার সময়টিও ছিল টুঙ্গিপাড়ার জন্য অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। দেশজুড়ে অস্থিরতা ও উদ্বেগের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ঘটনার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর তার কৌশলী পদক্ষেপ, বিচক্ষণতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পরিস্থিতিকে কখনোই উত্তপ্ত হতে দেয়নি। স্থানীয়রা বলছেন—তিনি আসার পর টুঙ্গিপাড়ায় অঘটনের ভয় কেটে যায়, মানুষ শান্তিতে রাত পার করতে পেরেছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি অপরাধ দমনে ঘোষণা করেন ‘জিরো টলারেন্স’। মাদক নির্মূল, সন্ত্রাস দমন, ইভটিজিং প্রতিরোধ, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং জুয়া নিয়ন্ত্রণে তার তাৎক্ষণিক অভিযান ছিল প্রশংসনীয়। রাতজাগা টহল, মাঠে সরাসরি উপস্থিতি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষকে দিয়েছে গভীর নিরাপত্তা অনুভূতি। যার ফলে দীর্ঘদিনের অশান্ত পরিবেশ বদলে গিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় ফিরে আসে স্থিতিশীলতা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, তার সময়ে চাঁদাবাজি বা কোনো ধরনের চাপ ছিল না, তারা নিশ্চিন্তে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পেরেছেন। সমাজের প্রবীণ ব্যক্তিরা বলেছেন, “রাতে সমস্যা হলে ফোন দিলেই তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যেতেন। এ রকম ওসি আমরা আগে দেখিনি।”

শুধু কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা নয়, মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তাকে আলাদা করেছে। থানার দরজা তিনি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতেন। অভিযোগ যেই করুক, তার পেশা, পরিচয় বা আর্থিক অবস্থান যাই হোক—তার কাছ থেকে সবাই সমান সেবা পেত। বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ ধৈর্যসহকারে শোনা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক।

তার বদলির সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয়দের মাঝে দেখা যায় আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। টুঙ্গিপাড়ার ইতিহাসে কোনো কর্মকর্তার বিদায়কে কেন্দ্র করে এমন ভালোবাসা খুব কমই দেখা গেছে। অনেকেই লিখছেন—“তিনি যাওয়ায় আমরা একজন সত্যিকারের অভিভাবককে হারালাম।”

বিদায়বেলায় ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, “আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। এই উপজেলার মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, আমি চিরকৃতজ্ঞ। আমার কাজের মাধ্যমে যদি সামান্য শান্তিও দিতে পেরে থাকি, সেটাই আমার সার্থকতা।”

তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করলেও তার রেখে যাওয়া শান্তির ভিত্তি, তার মানবিকতা এবং তার ন্যায়ভিত্তিক কাজের ধারা টুঙ্গিপাড়ার মানুষের মনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন কর্মস্থলেও যেন তিনি একইভাবে সফলতা ধরে রাখেন—এটাই এখন উপজেলাবাসীর প্রার্থনা।

NGS/MMH

Facebook Comments Box

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নড়াগাতীর সংবাদ।
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park