
মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ
বিয়ের প্রলোভনে ফেলে সাতক্ষীরার নারীকে অর্থনৈতিকভাবে সর্বস্বান্ত করে বিদেশে পালিয়েছেন স্বামী। প্রতারণার শিকার স্ত্রী বর্তমানে সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
জানা যায়, গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল গ্রামের মোহাম্মদ কামাল হোসেন (পিতা: আব্দুর রাজ্জাক শেখ, মাতা: জুলেখা বেগম) ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নাদিয়া সুলতানার (পিতা: কাজী বদরুজ্জামান) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর কামালের আর্থিক অস্বচ্ছলতা দেখে শ্বশুর ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে তাকে দ্বিতীয়বার কুয়েতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
বিদেশে থাকা অবস্থায় কামাল প্রথম ছয় মাস স্ত্রীকে প্রতিমাসে ১৮ হাজার টাকা করে পাঠালেও পরে জমি কেনার অজুহাতে খরচ বন্ধ করে দেন। এরপর তিনি স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না পেলে ডিভোর্স দিয়ে সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধের হুমকি দেন।
পরিবার ও সংসার রক্ষায় নাদিয়া সুলতানা তার সোনা বিক্রি ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে মোট ১০ লাখ টাকা কামালকে পাঠান। টাকা পাওয়ার পর থেকে কামাল তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। খোঁজ নিতে গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গেলে কামালের বাবা জানান, তিনি কামালকে ত্যাজ্য করেছেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
বর্তমানে স্ত্রী নাদিয়া সুলতানা ও তার সন্তান অর্থহীন, ঘরহীন অবস্থায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছি। আমার সন্তান ও আমার জীবনের নিরাপত্তা, অধিকার ও ন্যায্য বিচার চাই।”
ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।