
সমরেশ রায় ও শম্পা দাস, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
আজ ১৮ মার্চ, মঙ্গলবার দুপুর ১টায় কলকাতার মির্জা গালিফ স্ট্রিট সংযোগস্থলে ক্রেতা সুরক্ষা ভবনের অডিটোরিয়ামে বিশ্ব উপভোক্তা অধিকার দিবস ২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে একটি ট্যাবলোরও শুভ সূচনা করা হয়।
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর প্রতিবছর বিশ্ব উপভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপন করে থাকে। এ বছর ১৫ মার্চ সারাদেশে দিবসটি পালিত হলেও সরকারি ছুটির কারণে ১৮ মার্চ কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়। আগামী বছর নির্ধারিত ১৫ মার্চেই দিবসটি পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন ক্রেতা সুরক্ষা ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র, রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো এবং প্রধান সচিব শ্রীমতি নিলাম মিনা। এর আগে মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র ফিতা কেটে ট্যাবলোর উদ্বোধন করেন, যা সারা কলকাতাজুড়ে ঘুরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র, রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতো, প্রধান সচিব শ্রীমতি নিলাম মিনা (আইএএস) এবং ক্রেতা সুরক্ষা বিভাগের বিভিন্ন আধিকারিক, যথা— নিমাই চাঁদ হালদার, নন্দিনী স্বরস্বতী, নারায়ণ চন্দ্র বিশ্বাস, সুরঞ্জন কর, সৌমেন বসু, তরুণ কান্তি পাইন, নীলাঞ্জন ভট্টাচার্য, স্বপন কুমার বাসু রায়, তাপস কুমার কুন্ডু, শুভাশীষ কুমার কুন্ডু, শ্রীমতি প্রিয়দর্শিনী ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সেমিনারে বক্তারা উপভোক্তা সুরক্ষার ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, ১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ আমেরিকার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জন এফ. কেনেডি প্রথম উপভোক্তা সুরক্ষা আইন অনুমোদন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বিশ্বব্যাপী এ দিবস পালিত হয়।
সেমিনারে ই-কমার্স প্রতারণা, সাইবার নিরাপত্তা, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবহেলা, রিয়েল এস্টেট জালিয়াতি ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত প্রতারণার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা এতে অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে অর্থনীতির পরিসর ও কেনাকাটার ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে, ফলে উপভোক্তাদের প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। ২০২০ সালের ২০ জুলাই ভারতজুড়ে কার্যকর হওয়া “উপভোক্তা সুরক্ষা আইন ২০১৯” এই প্রতারণা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন আইনে ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণ, প্রত্যক্ষ বিক্রয় বিধি ও কেন্দ্রীয় উপভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র বলেন, “সাধারণ মানুষ যদি সচেতন না হয়, তবে প্রতারণা বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার যথাসম্ভব প্রচারণা চালাচ্ছে, তবে জনগণকেও নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে হবে। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের শুরু থেকেই ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা, যাতে ভবিষ্যতে তারা প্রতারণার শিকার না হয়।”
সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে মেলাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং “পশ্চিমবঙ্গ জনপরিষেবা অধিকার আইন” বইটি পড়ার আহ্বান জানানো হয়।