
নিজস্ব প্রতিবেদক
মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার, বীর উত্তম (অবঃ) ইন্তেকাল করেছেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ বার্ধক্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
মরহুম এ কে খন্দকার এক কন্যা, দুই পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ এক অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক, সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ও দূরদর্শী সামরিক নেতাকে হারাল। তাঁর প্রয়াণে রাষ্ট্র ও জাতি গভীর শোকে মুহ্যমান।
এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সেক্টরের মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও অদম্য মনোবল মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ত্বরান্বিত করতে বিশেষ অবদান রাখে।
স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি বাহিনীকে সুসংগঠিত ও কার্যকর বাহিনীতে রূপান্তর করতে তাঁর নেতৃত্ব ছিল ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনীর ভিত্তি লাভ করে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠন এবং দেশ গঠনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার–২০১১’ প্রদান করে।
মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামীকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নামাজে জানাজা ও গার্ড অব অনার অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার প্যারেড গ্রাউন্ডে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।