
শাহিনুর আক্তার নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণীসম্পদ খাত এখন একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পোল্ট্রি অধ্যুষিত এই উপজেলায় বর্তমানে দেশি ও বাণিজ্যিক খামার মিলিয়ে প্রায় ১৭ লাখ মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলোরও বড় একটি অংশের যোগান নিশ্চিত করছে।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুনায়েদ ইবনে হামিদ নাঈম দায়িত্ব গ্রহণের পর গত এক বছরে তার গৃহীত সেবাবান্ধব ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রাণীসম্পদ খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তার কার্যকর নেতৃত্বে উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তরের সেবার মান যেমন বেড়েছে, তেমনি খামারি ও উদ্যোক্তাদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
দপ্তরের ওয়েব পোর্টাল নিয়মিত হালনাগাদ ও সেবাসংক্রান্ত তথ্যের ব্যাপক প্রচারের ফলে প্রাণীসম্পদ বিভাগের সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে। এর সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছেন খামারি ও প্রান্তিক সেবা গ্রহীতারা। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, কৃত্রিম প্রজনন সেবা, উঠান বৈঠক, খামারি প্রশিক্ষণসহ প্রায় সব কার্যক্রমেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এছাড়াও তরুণ ও বিদেশফেরত আগ্রহী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে বেলাবো উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর। দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন ইতোমধ্যে সফলভাবে খামার বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনে হরিশঙ্গান গ্রামের খামারি সফিকুল ইসলাম জানান, “বিদেশ থেকে ফিরে আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এমন সময় পশু হাসপাতালে গিয়ে ডা. নাঈম স্যারের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আমাকে হাতে-কলমে লেয়ার খামারের প্রশিক্ষণ দেন এবং পরবর্তীতে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন। বর্তমানে আমি তিন হাজার মুরগির খামার পরিচালনা করছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পরিবার নিয়ে ভালো আছি।”
একইভাবে বাঘবেড় গ্রামের আল আমিন, রুহুল আমিনসহ আরও অনেকেই জানান, প্রাণীসম্পদ খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুনায়েদ ইবনে হামিদ নাঈম বলেন, “আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছি। সাধারণ মানুষের কাছে সহজে ও সময়মতো সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের যোগান নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
বর্তমানে বেলাবো উপজেলা দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পাশাপাশি চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত উৎপাদন করছে, যা আশপাশের জেলার বাজারেও সরবরাহ হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বেলাবো উপজেলার প্রাণীসম্পদ খাত একটি ইতিবাচক অগ্রগতির ধারায় এগিয়ে চলছে। এই অগ্রগতির স্রোতধারা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে—এমন প্রত্যাশাই সংশ্লিষ্ট সবার।