
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দর বড়দিয়া বাজারে আকস্মিক নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসন। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে দুর্যোগকালীন সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে নদীভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ইউএনও মো. জিন্নাতুল ইসলাম ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বড়দিয়া বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন চা-দোকানি ও নার্সারি ব্যবসায়ীর মধ্যে সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করা হয়। পরিদর্শনকালে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বড়দিয়া খেয়াঘাটের পশ্চিম পাশে ব্লকবাঁধানো এলাকায় আকস্মিক নদীভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রায় ৪০ হাত অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনে ৮ থেকে ১০টি চায়ের দোকান, পাঁচটি নার্সারি ও কয়েকটি গুদামঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশে এভাবে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, “বড়দিয়া বাজারের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙনে যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে ১৬ জন ব্যবসায়ীকে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জিওব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এ কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জিওব্যাগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারি সহায়তা দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, বড়দিয়া বাজারের অবশিষ্ট অংশ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সে জন্য স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।