
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বড়দিয়া বাজারকে নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের উদ্যোগে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর প্রস্তুতি ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে দোকানপাট, গুদামঘর ও খেয়াঘাটের অংশ হারিয়ে উদ্বেগে থাকা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বড়দিয়া বাজারের ভয়াবহ নদীভাঙনের চিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে গুরুত্ব পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্যের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে তৎপর হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকায় প্রতিরোধমূলক কাজের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে বড়দিয়া খেয়াঘাটের পশ্চিম পাশে ব্লক দিয়ে বাঁধানো এলাকার প্রায় ৪০ হাত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি চায়ের দোকান ও দুটি গুদামঘর তলিয়ে যায়। পরদিন সোমবার (১২ অক্টোবর) খেয়াঘাট এলাকার আরও কিছু অংশ ভেঙে পড়ে এবং তিন থেকে চারটি গুদামঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একের পর এক স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়।
বাজারের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্দশার খোঁজখবর নেন। এ সময় ১৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে প্রণোদনা দেওয়া হয়।
ইউএনও জানান, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। নদীভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যের পদক্ষেপ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাজারের আরও দোকানপাট, গুদামঘর ও অন্যান্য স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। বড়দিয়া বাজারের সঙ্গে শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যই নয়, আশপাশের বহু পরিবারের জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও জড়িয়ে রয়েছে। বাজারটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যবসায়ী, কর্মচারী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে ভয়াবহ নদীভাঙনে বড়দিয়া বাজারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। পরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বাজারটি আবার ঘুরে দাঁড়ায়। নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় পুরোনো সেই সংকট আবারও ফিরে এসেছে। ফলে বাজারের অস্তিত্ব রক্ষা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বড়দিয়া বাজারে রয়েছে বহুতল ভবন, মসজিদ, মাদ্রাসা, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, এনজিও, কলেজসহ চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ কারণে বাজারটি শুধু কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং আশপাশের এলাকার শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসী মনে করছেন, ভাঙন প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বাজারটি রক্ষার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চলমান প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বড়দিয়া বাজারকে নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত করা হবে। এতে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী বাজারটির অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা সম্ভব হবে।