
শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া
খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী ভবদহ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিয়েছে। ১৯৮৮ সাল থেকে এ জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এ সমস্যা মূলত ভবদহের ভাটিতে থাকা নদীগুলোর নাব্য হারানোর কারণে সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত টিআরএম প্রকল্প কার্যকর করার মাধ্যমে নদীগুলোর নাব্য পুনরায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভবদহ এলাকায় ১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে ২১ ভেন্ট বিশিষ্ট সুইজগেট নির্মিত হয়েছিল। এটি সমুদ্রের লোনাপানি প্রতিরোধ ও কৃষিযোগ্য মিঠাপানি ধরে রাখার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল। আশির দশক পর্যন্ত সুইজগেট কার্যকর থাকলেও পরে নদীগুলোর মূল উৎসপ্রবাহ পদ্মা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সাগরবাহিত পলি নদী ও খালের তলদেশে জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বর্তমানে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রীহরি, আপারভদ্রা, হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদীসহ সংযুক্ত খালগুলো ভরাট হয়ে ১৫–২০ ফুট গভীরতায় সীমিত হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও অন্তত ২–৩ শত গ্রাম এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালী বলেন, “রাজনীতিক ও কিছু আমলাদের ষড়যন্ত্রের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড এই জনপদকে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পরিণত করেছে। টিআরএম প্রকল্প ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”
কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ জানান, “২০১২ সালে সরকারি সিদ্ধান্তে টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হয়েছিল। তবে স্থানীয় ঘের মালিক ও কিছু প্রভাবশালী বাধার কারণে প্রকল্প বাতিল হয়। ২০১৭ সালে পুনরায় প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। এখন নদীগুলো ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেও ক্ষয়ক্ষতি হবে। টিআরএম প্রকল্প দ্রুত চালু করে নাব্য ফিরিয়ে আনাই একমাত্র সমাধান।”
স্থানীয়রা দাবি করছেন, সরকারি তদারকি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবদহ অঞ্চলে নদীর নাব্য পুনরায় ফিরিয়ে আনা গেলে কৃষি ও জনজীবনের জন্য স্থায়ী সমাধান মিলবে।