
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার বড়দিয়া–মহাজন পুরাতন খেয়াঘাট এলাকায় মধুমতী নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী জনপদ। ভাঙনের কবলে পড়ে একের পর এক বসতবাড়ি ও দোকান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সর্বশেষ রোববার (১১ অক্টোবর) খেয়াঘাট এলাকায় একাধিক দোকান নদীতে চলে গেছে। এতে ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়দিয়া–মহাজন পুরাতন খেয়াঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নদীভাঙন চলছে। সম্প্রতি ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। গত দুই মাসে এ এলাকায় অন্তত চার থেকে পাঁচটি বসতবাড়ি ও বেশ কয়েকটি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। সর্বশেষ ভাঙনে আরও কয়েকটি দোকান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
নদীর তীর ঘেঁষে থাকা দোকানপাট ও বসতবাড়িগুলো এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় আরও স্থাপনা নদীতে বিলীন হতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আবাসনের সংকট বাড়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা নির্বাহও কঠিন হয়ে পড়বে।
নদীভাঙন শুধু বসতভিটা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতিই করছে না, এলাকার মানুষের মধ্যে তৈরি করছে স্থায়ী অনিশ্চয়তা। যাঁরা নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাস করছেন, তাঁদের অনেকেই ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন। অন্যদিকে দোকান হারিয়ে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এলাকাবাসীর দাবি, নদীভাঙনের ভয়াবহতা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। ঝুঁকিতে থাকা বসতবাড়ি ও দোকানপাট রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, সময়মতো উদ্যোগ নেওয়া গেলে আরও অনেক পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।
বড়দিয়া–মহাজন পুরাতন খেয়াঘাট এলাকার নদীভাঙন এখন স্থানীয়দের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নদীতীরবর্তী আরও বসতবাড়ি, দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে এবং জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।