
আরিফুজ্জামান সাগর বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত Standard Operating Procedure (SOP) মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
তিনি আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে SOP স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে SOP’তে স্বাক্ষর করেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ বাহারুল আলম, এবং অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন জয়েন্ট এজেন্সি টাস্কফোর্সের ডেপুটি কমান্ডার Mark Whitechurch। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার Susan Ryle ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যা নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের নীতিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে। এটি শুধু প্রাণহানি ঘটায় না, দক্ষ অভিবাসনের পথেও হুমকি সৃষ্টি করে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন-নীতিমালা মেনে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই SOP প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে মানবপাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, “বাংলাদেশের শ্রমবাজার বৈচিত্র্যময়—অত্যন্ত দক্ষ পেশাদার থেকে শুরু করে আধা-দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী রয়েছে, যারা অস্ট্রেলিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”
উপদেষ্টা অস্ট্রেলিয়ার সরকারকে ঢাকায় ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া চালু করার সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং এই সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।