
বুলবুল আহমেদ, রাজাপুর প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির রাজাপুরে ফৌজধারী কার্যবিধি (জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ) মামলায় সাক্ষী দেওয়ায় খাদিজা বেগম (৪৫) নামের এক গৃহিনী অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
মঙ্গলবার (০৪ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের কানুদাসকাঠি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পারিবারিক জমিজমার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কানুদাসকাঠি এলাকার মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের ছেলে মাশরাফুল ও তার পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় প্রতিবেশী মোখলেছুর রহমান হাওলাদার, আবুল কালাম, তমা বেগম, ছাদিয়া প্রমূখ।
এই ঘটনায় মোখলেছুরসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী মাশরাফুল।
মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে খাদিজা বেগমের সাক্ষ্য প্রদানের পর ক্ষিপ্ত হন মোখলেছ উদ্দিন। ৪ মার্চ, খাদিজা বেগম যখন গৃহপালিত হাঁস ও হাঁসের বাচ্চা মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে আসছিলেন, মোখলেছ উদ্দিন তাকে পথরোধ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে হাঁস ও হাঁসের বাচ্চার ওপর লাথি মারে, যার ফলে দুইটি হাঁসের বাচ্চা মারা যায়। খাদিজা প্রতিবাদ করার সাথে সাথে মোখলেছ উদ্দিন তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করে এবং এক পর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে সারা শরীরে এলোপাথারি কিল, ঘুষি ও লাথি মারে। তার পোশাক ছিড়ে ফেলাসহ অমানবিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। স্থানীয়রা এসে খাদিজাকে উদ্ধার করে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
মামলার বাদী মাশরাফুল বলেন, ‘‘আদালতে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে মোখলেছ উদ্দিন ও তার লোকজন আমাদের হুমকি দিয়েছে। এর পরেই এই হামলা ঘটল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’’
অভিযুক্ত মোখলেছ উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘আমি বা আমার পরিবার এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।’’
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. তমাল জানান, ‘‘আহত খাদিজা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’’