
হাকিকুল ইসলাম খোকন,নিউইয়র্ক
কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন মার্ক কার্নি। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। লিবারেল পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েই কার্নি বলেন, “আমরা এই বাণিজ্য লড়াই চাইনি। কিন্তু কেউ যদি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, তবে কানাডাবাসী তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। হকি খেলার মতো বাণিজ্য লড়াইয়েও আমরা জিতব।”
ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে কটাক্ষ করেছিলেন এবং ট্রুডোকে ‘গভর্নর ট্রুডো’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এর জবাবে কার্নি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমেরিকা কখনো কানাডা হবে না, আর কানাডাও কোনো দিন আমেরিকার অংশ হবে না।”
কার্নির নেতৃত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং শিগগিরই তিনি গভর্নর জেনারেলের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার শপথের পরপরই কানাডায় সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে।
কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জনের ঢেউ:
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে কানাডার একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে মার্কিন পণ্য সরিয়ে ফেলতে শুরু করেছে। টরন্টোর একটি পানশালা তাদের মেনু থেকে সমস্ত মার্কিন পণ্য বাদ দিয়েছে।
এ ছাড়া, কানাডার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিবিসি দেশপ্রেম জাগাতে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে, যেখানে জনগণের মতামত তুলে ধরা হচ্ছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে অনেক কানাডীয় তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ এবং ‘বেইমান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ট্রাম্প কিছু শুল্ক স্থগিত করলেও কানাডার ক্ষোভ কমেনি। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ট্রাম্প প্রশাসন কানাডাকে অসম্মান করেছে, আমরা এই অবমাননার জবাব দেব।”
মার্ক কার্নির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অভিজ্ঞতা
নর্থ-ওয়েস্টার্ন টেরিটরিজে জন্ম নেওয়া কার্নি রাজনীতির বাইরের একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হলেও, তার অর্থনৈতিক নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি হার্ভার্ড ও অক্সফোর্ড থেকে ডিগ্রি নেওয়ার পর বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসে এক দশকেরও বেশি সময় কাজ করেছেন।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের সময় তিনি ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এরপর ২০১৩ সালে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর হন এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
জাস্টিন ট্রুডোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করা কার্নি এবার সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে লিবারেল পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করেছেন। বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি দলের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং এখন দেশের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
কানাডার নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে কার্নির সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।