
বিশেষ প্রতিনিধি
যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও জাতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার আবহে আজ শুক্রবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌ অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী দিবস–২০২৫ উদ্যাপিত হয়েছে। দিনের শুরুতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সব মসজিদে ফজরের পর বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের রুহের মাগফিরাত, দেশের সার্বিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি, এবং সশস্ত্র বাহিনীর আরও উন্নতি কামনা করা হয়।
খুলনা অঞ্চলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে কমান্ডার খুলনা নৌ অঞ্চল মুক্তিযুদ্ধের দুই বীর সন্তান—বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ রুহুল আমিন ও বীর বিক্রম শহিদ মহিবুল্লাহর মাজারে গার্ড অব অনার ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বানৌজা তিতুমীর ঘাঁটিতে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারবর্গসহ বিভিন্ন পদবীর সামরিক কর্মকর্তা ও খুলনা বিভাগের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য–উপ-উপাচার্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও সস্ত্রীক যোগ দেন।
দিবসটিকে ঘিরে নৌবাহিনীর সব জাহাজ ও ঘাঁটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান নিয়ে তৈরি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজগুলোতে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অংশগ্রহণ করে।
সারাদিনজুড়ে নৌবাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে জনসাধারণের জন্য জাহাজ পরিদর্শনের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়। ঢাকার সদরঘাঁটে বিএনডিবি গাংচিল, চট্টগ্রাম নেভাল বার্থে বানৌজা সমুদ্র অভিযান, খুলনা বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চ টার্মিনালে বানৌজা বিশখালী, মোংলার দিগরাজ নেভাল বার্থে বানৌজা আবু বকর, বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ ঘাঁটে বানৌজা পদ্মা এবং চাঁদপুর ঘাঁটে বানৌজা অতন্দ্র দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
এ সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ নৌবাহিনীর জাহাজ ঘুরে দেখেন এবং তাঁদের আধুনিক সক্ষমতা ও দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নৌবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন।