
হাকিকুল ইসলাম খোকন নিউইয়র্ক
ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে নির্ধারিত খনিজ চুক্তি বাতিল হয়েছে তাদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের কারণে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশ হওয়ার কারণ নেই, কারণ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরল খনিজ সম্পদের বিষয়ে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন।
রাশিয়ার খনিজ সম্পদ এবং পুতিনের আহ্বান:
একটি ভাইরাল ভিডিওতে পুতিন বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পৃথিবীর বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বেসরকারি কোম্পানিগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে যদি তারা আগ্রহী হয়।
পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার বিরল খনিজ সম্পদের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তিনি মুরমানস্ক, ককেশাস অঞ্চল, ইরকুটস্ক, ইয়াকুটিয়া ও টুভার মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেন। এসব সম্পদ আহরণে বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বিদেশি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ:
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর যেসব অঞ্চল দখলে নিয়েছে রাশিয়া, সেখানেও খনিজ সম্পদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন পুতিন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এসব অঞ্চলে রাশিয়ার অংশীদার হতে পারে।
ট্রাম্প-জেলেনস্কির বৈঠকের প্রেক্ষাপট:
গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যে উত্তপ্ত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও, দুই নেতার মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার কারণে তা ভেস্তে যায়। এর পরপরই পুতিন এই খনিজ সম্পদ চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।