
হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক
গ্রিনকার্ডধারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের নিয়মকানুন আরও কঠোর করা হচ্ছে। যারা এ দেশে স্থায়ীভাবে না থেকে বছরে এক-দুবার এসে সরকারি ইন্স্যুরেন্স সুবিধা, চিকিৎসা সহ বিভিন্ন সুযোগ নিচ্ছেন, তাদের এখন নিয়মিত অবস্থানের প্রমাণ দিতে হবে—না হলে জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হতে পারে।
সূত্র জানায়, ৫ জুলাই ২০২৫ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় থেকেই এই নতুন কঠোরতা কার্যকর হয়েছে। গ্রিনকার্ডধারীদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে—তারা কোথায় থাকেন, কী করেন, কীভাবে জীবনযাপন করেন, তাদের ব্যাংক হিসাব আছে কিনা, ট্যাক্স দেন কিনা, বাসা-ভাড়া বা ইউটিলিটি বিলের রেকর্ড আছে কিনা ইত্যাদি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব গ্রিনকার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃতপক্ষে থাকেন না, তাদের হয়তো গ্রিনকার্ড হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। যাদের পরিবারের সন্তানরা এখানে লেখাপড়া করলেও বাবা-মা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় এসে ফিরে যান, তারাও পড়ছেন কড়াকড়ির আওতায়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার উপযুক্ত প্রমাণ যেমন—বাসস্থান, ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স ফাইলিং, স্থানীয় ঠিকানাসংবলিত আইডি কার্ড ইত্যাদি না থাকলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রবেশের সময় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হবেন। এমনকি গ্রিনকার্ড বাতিলের প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকতে চান না, তাদের উচিত স্বেচ্ছায় গ্রিনকার্ড প্রত্যাহার (surrender) করে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ভিজিটর ভিসায় আসা-যাওয়া করা। আর যারা থাকতে চান, তাদের এখনই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত যাতে নিয়মিত বসবাসের উপযুক্ত প্রমাণ ভবিষ্যতে তুলে ধরতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের দেশে থাকার বিষয়টি এখন সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ভবিষ্যতে নিয়ম আরও কঠোর হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তাই যারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন, তাদের এখন থেকেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট (ইলেকট্রনিক অথবা প্রিন্ট) সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।