
রাজধানীর উত্তরখানের পুরানপাড়া এলাকায় নিজ ভাড়া বাসায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে শান্তিনগরের হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে (৫০)। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মুজাহিদুর রহমান ভূঁইয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্ত শুরু হয় এবং সন্দেহভাজন হিসেবে ২০-২২ বছর বয়সী এক তরুণ ও তরুণীর খোঁজ মেলে। তাদের নাম নাজের ও রুপা, যাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) ফরিদপুর থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে উত্তরখান থানা পুলিশ।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মুহিদুল ইসলাম জানান, “গ্রেপ্তারকৃতরা স্বামী-স্ত্রী এবং সাত মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়, এরপর তারা বিয়ে করেন। আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। প্রাথমিকভাবে তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে।”
উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, নিহত উপাধ্যক্ষ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। কয়েকদিন আগে নাজের ও রুপা নামের দম্পতি ওই ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সোমবার ভোরে তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যান এবং পরে ফরিদপুরে আত্মগোপন করেন। অভিযানের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে, দক্ষিণখান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. নাসিম এ-গুলশান জানান, “নিহতের ফ্ল্যাটে একজন তরুণ ও তরুণী কিছুদিন আগে উঠেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বের করা হবে।”
এদিকে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পরে তা নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।