
হারুন শেখ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবের ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন পণ্ড করতে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা ও হামলার অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান মিঠু। সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মল্লিকেরবের ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও আসন্ন সম্মেলনের সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আলিম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
মেহেদী হাসান মিঠু জানান, রামপালের ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে বিএনপির সম্মেলন ইতোমধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মল্লিকেরবের ইউনিয়নের সম্মেলনকে সামনে রেখে তার পিতা আব্দুল আলিম হাওলাদার ও তার প্যানেলের জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গত রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু ও শামীম হাসান পলকের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক লোক সন্নাসী বাজার এলাকায় তার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা গেট ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়, বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমনকি তাকে হত্যা করারও চেষ্টা করে। পেট্রোল, দেশীয় অস্ত্রসহ সশস্ত্র অবস্থায় তারা হামলায় অংশ নেয় বলে তিনি দাবি করেন।
মেহেদী আরও জানান, হামলাকারীরা তার পরিবারের সদস্য, নেতাকর্মী ও বিএনপি অফিসে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩০ জনকে আহত করেছে। এর মধ্যে কয়েকজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তিনি বলেন, “এই হামলা শুধু ইউনিয়ন নয়, পুরো উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বের দিকেই ইঙ্গিত করছে। উপজেলা আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান তুহিনের অনুসারীরা ইতোমধ্যে ৮টি ইউনিয়নে জয়ী হয়েছেন। অপর দিকে সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলামের অনুসারীরা মাত্র একটি ইউনিয়নে জয়ী হয়েছেন। তাই এই সহিংসতার মাধ্যমে সম্মেলন পণ্ড করে উপজেলা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করাই তাদের উদ্দেশ্য।”
তিনি বলেন, “আমার পরিবার শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমি কেন্দ্রীয় বিএনপি ও জেলা কমিটির কাছে জোর দাবি জানাই—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন মহলের কাছে অনুরোধ, আমাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মল্লিকেরবের ইউনিয়নে চলমান উত্তেজনার অংশ হিসেবে শনিবার রাতে বেতবুনিয়া এলাকায় হামলার ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকসহ ১১ জন আহত হন। এরপর প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে রোববার মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়, যার মধ্যে থেকেই সহিংসতা শুরু হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়।