
হারুন শেখ, বাগেরহাট:
বৈশাখের প্রচণ্ড খরতাপে নাজেহাল হয়ে পড়েছে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার জনজীবন। গত এক সপ্তাহ ধরে গড় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। অসহনীয় গরমে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
শুরু থেকেই দাবদাহের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী শ্রমজীবী মানুষ। দিনমজুর, কৃষক, নির্মাণশ্রমিক, ইটভাটা ও রিকশাচালকদের জীবিকা এখন একপ্রকার জীবন-মরণ সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। দুপুরের পর রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল একেবারেই কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “গরমে শরীর কাঁপে, তবুও রাস্তায় নামতেই হয়। কিন্তু যাত্রীও নাই, ইনকামও নাই।”
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য তাপঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত বলেন, “এই গরমে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের বাইরে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়। হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে।”
চলমান তাপদাহের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। অনেক স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হঠাৎ করে কমে গেছে। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, শ্রেণিকক্ষে দীর্ঘসময় গরম সহ্য করতে না পেরে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও ক্লাস স্থগিত রাখারও সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অফিসেও কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অনেকেই অর্ধদিবস ছুটি নিচ্ছেন কিংবা কাজ সীমিত করে ফেলছেন।
এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হচ্ছে, পাখা বা এসি চালানো যাচ্ছে না। পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় গৃহবধূ সুলতানা পারভীন বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে পানি ওঠে না। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, শিশুরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
রামপাল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এই তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়াবিদরা জনগণকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।