
হারুন শেখ, বাগেরহাট
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় যাতায়াতের পথ খুলে দেওয়ার দাবিতে অবরুদ্ধ দলিত ছয়টি পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করেছেন। বুধবার দুপুরে উপজেলার ভাগা বাজার সংলগ্ন মহাসড়কে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে স্থানীয় লোকজনও সংহতি জানান।
ভুক্তভোগীরা জানান, রামপালের হাতিরবেড় গ্রামের ছয়টি দলিত পরিবার প্রায় ছয় বছর ধরে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। হাতিরবেড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে তাঁদের বসতবাড়ি। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঘিরে দেয়াল নির্মাণের পর যাতায়াতের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিবারগুলোর নারী-পুরুষ ও শিশুরা এখন দেয়ালের নিচের সরু ফাঁক গলে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই ছয়টি পরিবার মৃত নিরোদ দাসের পাঁচ ছেলে—সঞ্জয় দাস, কিশোর দাস, নয়ন দাস, অসীম দাস, কৃষ্ণ দাস—এবং সঞ্জয় দাসের ছেলে সজল দাসের পরিবার নিয়ে গঠিত। মোট ২৩ জন সদস্যের মধ্যে ১১ জন শিশু ও কিশোর। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন ওই ছোট ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে নারী-পুরুষ ও শিশুরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকেন। কেউ দেয়ালে মাথা ঠুকে আহত হয়েছেন, বর্ষাকালে কাদা-পানিতে ভোগান্তিও নিত্যদিনের। পূর্বদিকে গভীর ডোবা ও পশ্চিমে অন্যের বসতবাড়ি থাকায় বিকল্প কোনো পথও নেই।
সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এনসিপি’র উপজেলা সমন্বয়ক মো. মাজেদুর রহমান জুয়েল বিষয়টি তুলে ধরেন। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এক মাস পার হলেও কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পান্না আক্তার বলেন, “দেয়াল নির্মাণের সময় এক হাত জায়গা ছাড়লে তাঁদের জন্য পথ রাখা যেত। কিন্তু তারা জায়গা দিতে রাজি হয়নি।” তবে ভুক্তভোগী সঞ্জয় দাস ও কিশোর দাস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কখনো জায়গা দিতে অস্বীকার করিনি। কেউ আমাদের কথা শুনেননি।”
ইউএনও মিজ তামান্না ফেরদৌসী বলেন, “বিষয়টি মানবিক হলেও এটি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন। তারা চাইলে দ্রুত সমাধান সম্ভব।” উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি সত্যিই অমানবিক। জেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পরিবারের আকুতি— “আমাদের জন্য একটা ছোট্ট চলাচলের পথ খুলে দিন। আমরা আর দেয়ালের ঘেরাটোপে বন্দি হয়ে থাকতে চাই না।”