
হারুন শেখ, বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় মৎস্যঘের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন আহত হওয়ার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী শেখ আসাদুজ্জামান রামপাল থানায় মামলাটি করেন। তবে মামলার পর থেকেই প্রতিপক্ষ মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিবনগর গ্রামে শেখ আসাদুজ্জামান ও তাঁর পরিবার নিজস্ব জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্যঘের পরিচালনা করে আসছিলেন। একই এলাকার প্রতিপক্ষ ঘেরটি দখলে নেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করলে ভুক্তভোগীরা আদালতে জীবনের নিরাপত্তা ও জমিজমার শান্তিপূর্ণ ভোগদখলের দাবিতে দুটি মামলা দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ গত ১৪ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিবনগর গ্রামে হামলা চালায়।
এজাহারে বলা হয়, সেদিন ভুক্তভোগীরা মৎস্যঘেরে যাওয়ার সময় ইয়াহিয়ার ঘেরের ভেড়ীতে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের জাহিদ শেখ, আশ্বাব শেখ, অহিদ শেখ, শহিদ শেখ, জিহাদ শেখ, মুরাদ শেখ, মাসুদ শেখ, তামিম শেখ, শাহীন হাওলাদার, নাসির হাওলাদার, আসাদ শেখ, অছিক শেখ, মোকছুদ শেখ, সাবেকুন্নাহার ও খাদিজা বেগমসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। লবণমাখা মরিচগুঁড়া ছিটিয়ে, রামদা, ছোরা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এ ঘটনায় শরিফুজ্জামান রুবেল (৩০), শাহা আলম (৩০), শাহিন শেখ (৫২) ও আব্দুল্লাহ শেখ (২৫) আহত হন। তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বাদী আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা এখন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। মামলা না তুললে তাঁদের বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রামপাল থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, “জমিজমা ও মৎস্যঘের নিয়ে বিরোধে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মামলা নেওয়া হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”