
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার খেয়াঘাট ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি পাবলিক শৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ব্যবহার না হওয়ায় সরকারি অর্থ অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের শৌচাগারটি সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ এবং খেয়াঘাট এলাকার মহিলাদের জন্য নির্ধারিত অংশটি বন্ধ রয়েছে। পুরুষদের অংশটি খোলা থাকলেও ভেতরে মল-মূত্রের দুর্গন্ধে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে পরিবেশ দূষণসহ এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে স্থানীয় পথচারীরা বলেন, জনসাধারণের স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য টয়লেট দুটি নির্মাণ করা হলেও এখন সেগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে আশপাশের মাঠে বা খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করছেন, এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
জানা গেছে, রামপাল উপজেলা এলজিইডি এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে দুটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের শৌচাগারটি ইউএনডিপি প্রকল্পের অধীনে ২০১৯ সালে মেসার্স মঞ্জু এন্টারপ্রাইজ খুলনা নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৯১১ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ সম্পন্ন করে এবং ২০২৪ সালের জুন মাসে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে খেয়াঘাটের শৌচাগারটি পল্লী অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের অধীনে ২০২০ সালে ওয়েলকাম মোটরস নামের প্রতিষ্ঠান ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকায় নির্মাণ সম্পন্ন করে এবং ২০২১ সালের ডিসেম্বরে হস্তান্তর করে। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নির্মাণের পর থেকে দুটি শৌচাগারই প্রায় বন্ধ অবস্থায় আছে। স্থানীয় প্রশাসনের কেউই নিশ্চিত করতে পারেননি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচালনার দায়িত্ব কার কাছে গেছে, তা নিশ্চিত নন। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, খেয়াঘাটের শৌচাগারটি স্থানীয় কমিউনিটির তত্ত্বাবধানে থাকার কথা। ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী একরামত হোসেন বলেন, এখানে লোকজন খুব একটা আসে না, তাই দিনের অধিকাংশ সময় শৌচাগারটি বন্ধ থাকে। পরিবেশ আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে শৌচাগার দুটি নির্মাণ করা হলেও তা তালাবদ্ধ। এতে সরকারের অর্থ এবং জনগণের সেবা দুটোই ব্যর্থ হয়েছে। রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি বলেন, প্রকল্প দুটির বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত রেকর্ড নেই। খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাবলিক টয়লেট তালাবদ্ধ থাকা দুঃখজনক, সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে তালা খুলে শৌচাগার দুটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বাগেরহাটের রামপালে এই দুটি অকেজো পাবলিক টয়লেট শুধু সরকারি অর্থ অপচয়ের নজির নয়, বরং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থারও এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।