
নাজিম সরদার, খুলনা:
খুলনার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান পূর্বে পিঠাভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে তার আপন মামি বেবী বেগমের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী খাদিজা দাম্পত্য জীবন রক্ষার প্রয়াসে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে শিক্ষা অফিসার আঃ রব বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলে, বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমানের মধ্যস্থতায় মৌখিক মুচলেকার মাধ্যমে পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।
মুচলেকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল: মামির সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখা যাবে না এবং স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে কোনো ছাত্রীকে পড়ানো যাবে না। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক মোস্তাফিজ পুনরায় বাড়িতে ছাত্রী এনে পড়ানো শুরু করেন।
এই অবস্থায় বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে মৌখিকভাবে শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মোস্তাফিজুর রহমান শেখ হাবিব ও তার পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শেখ হাবিব জানান, “মাস্টার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করায় আমি বিষয়টি তাকে স্মরণ করিয়ে দিই। কিন্তু তিনি সংশোধন না হয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেন।”
রূপসা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গণমাধ্যমকে জানান, “অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ স্থানীয় সচেতন মহল।