
মনির খান স্টাফ রিপোর্টার নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামে রহস্যজনকভাবে নিহত হয়েছেন স্থানীয় পরিচিত মুখ মো. মুকুল হোসেন (৫০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত রুহল মাতুব্বরের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে লোহাগড়ার নিরিবিলি পার্কের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৭ আগস্ট ২০২৫) বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার নিরিবিলি পিকনিক স্পটের মূল গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সেদিন বিকেলে ২–৩ জন সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে মুকুলের ওপর চড়াও হয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত হয়ে তিনি অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যান।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি মুকুলকে ঘিরে ধরে শারীরিক নির্যাতন করছে। ভিডিও দেখার পর থেকেই স্থানীয়রা বলছেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং একটি হত্যাকাণ্ড।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনার পরপরই এটিকে ভিন্ন খাতে নিয়েছে। তারা দাবি করছে, মুকুল হোসেন নাকি ‘হার্ট অ্যাটাক’-এ মারা গেছেন। শুধু তাই নয়, নিহতের মরদেহ দ্রুত দাফন সম্পন্ন করার তাগিদও দেওয়া হয়, যেন ঘটনাটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন— কেন এত তাড়াহুড়া করে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ? কাদের স্বার্থে হত্যাকাণ্ডকে গোপন করা হয়েছে ?
এলাকাবাসী আরও বলেন, একজন মানুষকে প্রকাশ্যে মারধর করে হত্যার পর তাকে হার্ট অ্যাটাকে মৃত দেখানো হয়েছে —এটি সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার নগ্ন প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এখনো সাধারণ চলাফেরা করছে।
এ নিয়ে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এভাবে ঘটনা গোপন করার চেষ্টা করলে মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঘটনার সঠিক তদন্ত, খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রশাসন যদি নীরব থাকে এবং হত্যাকারীদের আড়াল করা হয়, তবে এলাকাবাসী কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।