
স্টাফ রিপোর্টার লোহাগড়া, নড়াইল
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুর এলাকায় একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে এসেছে মোবাইল চুরির একটি চক্রের সন্ধান। ঘটনার সূত্র ধরে বাজার থেকে মোবাইল উদ্ধার এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গোপিনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদের ঘর থেকে গত ১৪ জুন শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টা ৪৩ মিনিটে একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল চুরি হয়। ঘটনার সময় ওই বাড়িতে একই গ্রামের জামিরের ছেলে শাওন (পেশায় মাংস ব্যবসার দিনমজুর) উপস্থিত ছিলেন।
চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, শাওন একই গ্রামের বেপারীপাড়ার মোশারফ হোসেনের ছেলে বাবুকে সঙ্গে নিয়ে লোহাগড়ার মোল্লা মার্কেটস্থ “সাদ্দাম টেলিকম” দোকানে চুরি হওয়া মোবাইলটি ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। বিক্রির অর্থের মধ্যে বাবুকে এক হাজার টাকা দেয় শাওন, বাকি ১১ হাজার টাকা নিজে রেখে দেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গোপিনাথপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন। স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে চোর শনাক্ত করার পর সাদ্দাম টেলিকম থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জানা যায়, সালিশ বৈঠকে শাওন দোকানদারকে নগদ ৬ হাজার টাকা ফেরত দেন এবং বাকি ৬ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য সময় নেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, “ছোট ছোট চুরির ঘটনা থেকেই সমাজে বড় অপরাধের জন্ম হয়। কিছু যুবক এখন মাদক সেবন ও বিক্রিতে জড়িত হয়ে পড়ছে—এটি উদ্বেগজনক। সামাজিকভাবে এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি।”
মোবাইল চুরির ঘটনার পর মোবাইলের মালিকের চাচাতো ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর: ৭১৮।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “জিডির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চুরি সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনায় স্থানীয় সালিশের পাশাপাশি আইনের আশ্রয় নেওয়াও জরুরি।”