
স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধোপাদহ গ্রামের আক্কাস শেখের ছেলে শিমুল শেখের বিরুদ্ধে নিজের বাবা ও বড় বোনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটে ১৬ সেপ্টেম্বর। ওইদিন শিমুল শেখ তার বাবা আক্কাস শেখকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বাবা রাজি না হওয়ায় সে উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করে। প্রাণ বাঁচাতে আক্কাস শেখ লোহাগড়া থানায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তার মেয়ের অনুরোধে তাকে বাড়ি পাঠায়।
পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর বড় মেয়ে পারিবারিক ঝামেলা মেটাতে বাবার বাড়ি গেলে শিমুল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে মারপিট করে। এ সময় গলা চেপে ধরেও হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন আক্কাস শেখকে-ও মারধর করে গুরুতর আহত করে।
পরে আক্কাস শেখ ও তার মেয়ে পৃথকভাবে লোহাগড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে এসআই তারেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শিমুল শেখ পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে থানায় আসতে বললে মোবাইলে সে বলে, “আমার বিরুদ্ধে মামলা দিক, আমি কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসব।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিমুল শেখের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। মা-বাবা, বোন ও ভাবীকে মারধরের একাধিক ঘটনা ছাড়াও স্কুলজীবনে সে বিভিন্ন কুকর্মে জড়ায়। এক সময় পাচুড়িয়া গ্রামের এক ধনী ব্যক্তির মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পালিয়ে যায় এবং টাকা আদায় করে নানা জায়গায় ঘোরাফেরা করে। একাধিকবার ওই মেয়েকে নিয়ে লাপাত্তা হওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ডিভোর্স হয়। পরে সে আবারও বিভিন্ন বিয়ে করে প্রতারণা ও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে।
এমনকি স্ত্রীদের ওপর নির্যাতন, সংসার ভাঙন, এবং এলাকায় মেয়েদের উত্যক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।স্থানীয়দের দাবি, শিমুল শেখের এসব অপকর্মের সঠিক বিচার না হওয়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।