
মনির খান স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের বারপাড়া মৌজায় প্রায় ১৪ একর জমি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ইতনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ সিহানূক রহমানের নেতৃত্বে কুমারডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও মেম্বার সাহাদুল শেখ, তার ভাই ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন শেখ (আবু)সহ কয়েকজন মিলে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে জমিটি জোরপূর্বক দখলে রেখেছিলেন।
এ জমির প্রকৃত মালিক দাবি করে ইতনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেম্বার শেখ পলাশ আলী জানান, তার বাবা শেখ মহাসিন আলীর নামে দলিলভুক্ত জমিটি দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে দখলে রাখে বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজন। তিনি আরও জানান, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জমিটি আবারও নিজেদের দখলে আনতে সক্ষম হন তারা।
জানা গেছে, বারপাড়া মৌজার ওই জমিটি আব্দুল হাই মিয়া বিক্রি করেন শেখ মহাসিন আলী, রাহেন, এজলাস শেখ, বাচ্চু শেখ ও বুদ্ধিমন্তর বিশ্বাসের কাছে। যার কবলা দলিল নম্বর ৩০৮৯/৩০৯০/৩৫৯১/৩৯১৯।
উক্ত জমি নিয়ে নড়াইল জেলা জজ কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে, যার নম্বর ২৮২/২২। মামলার বাদী শেখ মহাসিন আলী।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা পাল্টা অভিযোগ করেছেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলমান থাকায় আদালতের নিষ্পত্তি ছাড়া কেউ মালিকানা দাবি করতে পারেন না। জমি বিরোধ নিয়ে সেনাবাহিনীর মধুমতি আর্মি ক্যাম্পে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়। অভিযোগের পর সেনা সদস্যরা সরেজমিনে গিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং আদালতের রায় পর্যন্ত শান্ত থাকার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিমত, জমি সংক্রান্ত এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান আদালতের রায়ের মাধ্যমেই সম্ভব।