
মনির খান স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার সোনাদহ পাচুড়িয়া গ্রামে এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ছোট ভাই পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমান টুলু ও তার স্ত্রী রিক্তা বেগমের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী বাক প্রতিবন্ধী শিউলি খানম (৪০) বর্তমানে তিনি লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে প্রতিবন্ধী ভাতা এবং হাঁস-মুরগি পালনের আয় দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন বক প্রতিবন্ধী শিউলি খানম। তার ঘরে সঞ্চিত প্রায় ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ৭ বছর আগে পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমান কে ৬০ হাজার টাকা ধার দেয় । কিন্তু বারবার পাওনা টাকা চাওয়া সত্ত্বেও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ওই পুলিশ সদস্য ও তার স্ত্রী তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলো।
বাক প্রতিবন্ধী শিউলি খানম তার ভাই পুলিশ সদস্য জিল্লুর রহমানের কাছে একদিন বিকেলে বিশেষ প্রয়োজনে টাকা চাইতে গেলে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, এবং এক পর্যায়ে জিল্লুর রহমান লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত করে। এরপর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে এবং রিক্তা বেগম শিউলির চুল ধরে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। তাদের আঘাতে শিউলি খানম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং অজান্তে প্রস্রাব-পায়খানা করে দেয়। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে।
স্থানীয়রা জানান, জিল্লুর রহমান বাড়িতে আসলেই প্রায়ই স্ত্রীর কুপরামর্শে বোনকে মারধর করতেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার আশঙ্কা করছে, অভিযুক্তরা যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এ বিষয়ে লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।