
মনির খান, স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণডাঙ্গা বাজারে এক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি উলফাত মোল্লা, চর ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের শামসুর রহমান মোল্লার ছেলে এবং ব্রাহ্মণডাঙ্গা বাজারের একটি ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক।
ঘটনাটি ঘটে ১৩ এপ্রিল (রবিবার) দুপুরে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়িভাঙ্গা গ্রামের সাম কাজীর প্রতিবন্ধী মেয়ে বাজারে গেলে দোকানের ভেতরে একা পেয়ে উলফাত মোল্লা তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় কিছু ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করলে দ্রুত মেয়েটির মাকে খবর দেন। মেয়েটির মা ঘটনাস্থলে এসে শারীরিক অবস্থা দেখে নিশ্চিত হন যে, তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাজার কমিটির কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাজারেই একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠকে অভিযুক্ত উলফাত মোল্লাকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাজারের সার ডিলার কামরুলসহ লাভলু, নাজির, তাজেল, জাকির, বোরাক ও আরও ১৫-২০ জন। তবে আশ্চর্যের বিষয়, ভুক্তভোগী পরিবারের কাউকে বৈঠকে ডাকা হয়নি।
ঘটনার পরপরই উলফাত মোল্লা তার দোকান বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৯১৮৩০৪৬৬২) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উলফাত মোল্লার ভাতিজি বলেন, “আমার চাচা নির্দোষ। তাকে মিথ্যা ফাঁসানো হয়েছে। যদি সত্যিই অপরাধ করে থাকে, তবে তার বিচার হোক। কিন্তু যখন ২ লক্ষ টাকায় বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা হলো, তখন সাংবাদিক-পুলিশ আমাদের বাড়িতে আসছে কেন?”
ধর্ষিত কিশোরীর চাচা বলেন, “ইজ্জত তো গেলই, এখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না। টাকা দিয়ে কী হবে? আমাদের তো সালিশে ডাকা হয়নি।”
এলাকাবাসীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।