
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা গ্রামের স্বনামধন্য বিএনপি নেতা মোঃ লুৎফর রহমানের ব্যক্তিগত জীবনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইল সদর মাইজপাড়া এলাকার একটি ভাড়া কৃত বাসার বেডরুমে স্ত্রী রহিমা বেগম (পরী) হাতেনাতে ধরেন লুৎফর রহমান ও তাঁর পরকীয়া প্রেমিকা সাদিয়া শোভাকে।
ঘটনার সূত্রপাত দীর্ঘদিন ধরে রহিমা বেগমের নজরদারির কারণে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লুৎফর রহমান একাধিক মহিলাকে বিবাহ ও পরকীয়া করছেন। শনিবারের ঘটনা সেই অভিযোগেরই বহিঃপ্রকাশ। ধর্ষণের অভিযোগ নয় হলেও, ঘটনার সময় স্ত্রী রহিমা বেগম লুৎফর রহমান ও সাদিয়া শোভাকে বেডরুমে দেখতে পান এবং তাদের উপর বেধড়ক আক্রমণ করেন। পরে লুৎফর রহমান ওই বাসা থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাদিয়া শোভা মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বারিক বিশ্বাসের মেয়ে। তিনি আগে মেহেরপুরের প্রবাসী আয়নাল হকের স্ত্রী ছিলেন। ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আয়নাল হক তাঁকে ২,৫০,০০০ টাকা নগদ দিয়ে খোলা তালাক দিয়েছেন। তবে তালাকের আগে ২৮ মার্চ ২০২১ তারিখে লুৎফর রহমান ও সাদিয়া শোভা কাবিন করেছিলেন বলে এক ভিন্ন কাবিন নথি পাওয়া গেছে, যা ঘটনার সত্যতা ও বিবাহকাল নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
রহিমা বেগম (পরী) লোহাগড়া উপজেলার পদ্মবিলা গ্রামের মৃত সালাম শেখের মেয়ে। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে লুৎফর রহমানের সাথে বিবাহিত জীবন কাটিয়ে আসছেন। এই ঘটনার পর রহিমা বেগম স্থানীয়ভাবে বলেছেন, “আমি বহুদিন ধরে স্বামীর অবিচার ও পরকীয়ার শিকার হচ্ছি। আজ আমি নিজ চোখে তার সত্য দেখলাম।”
ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিষয়টি বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। লুৎফর রহমান ও সাদিয়া শোভা এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।