
মনির খান ষ্টাফ রিপোর্টার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গ্যাস দিতে গিয়ে মাত্র ৭ মাসের এক শিশুকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে। নিহত শিশুর নাম ফাহাদ শেখ। সে মরিচপাশা গ্রামের প্রবাসী নাঈম শেখ ও গৃহবধূ লিপি বেগমের একমাত্র সন্তান।
শিশুর মা লিপি বেগম জানান, শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে শিশুটির হালকা শাঁস কষ্ট হচ্ছিল, তখন আমার বাচ্চা টা কে নিয়ে কাঠালতলা বাজারের কথিত ডাক্তার ইমনকে দেখাতে নিয়ে যায়। ইমন নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে “গ্যাস দেয়। আমি গ্যাস দিতে নিষেধ করলে ও আমার কথা ডাঃ শুনে নাই কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার ছেলে ফাহাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
লিপি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওর একটু শাঁস কষ্ট ছিল বলে নিয়ে গেলাম, কিন্তু ইমন কে গ্যাস দিতে গিয়ে আমার বুকের ধনকে মেরে ফেলল। আমি বারবার বলেছি হাসপাতালে নিয়ে যাই, সে বলে কিছু হবে না। এখন আমার ছেলে নেই…”
স্থানীয়রা জানান, কাঠালতলা বাজারের ইমন নামের ওই ব্যক্তি কোনো চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হাতুড়ে ডাক্তার হিসেবে সবধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে অতীতেও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ আছে।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার খবর পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
শিশু ফাহাদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে ওই ভুয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে এ ধরনের হাতুড়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।