
মনির খান, স্টাফ রিপোর্টার
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব ইউনুসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে এই বদলি আদৌ শাস্তি কিনা, তা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, বদলি কোনো শাস্তি নয় বরং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য এক ধরনের রক্ষাকবচ।
ভূমি রেকর্ড সংশোধনে অবৈধ অর্থ গ্রহণ, নামজারি ও ডিসিআর জালিয়াতি, ভুয়া রেকর্ড তৈরি, সাধারণ জনগণকে হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে নায়েব ইউনুসের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের কারণে বহু মানুষ আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে রেকর্ড সংশোধন ও নামজারির কাজ আটকে রাখা হতো, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভূয়া দলিল তৈরি করে সাধারণ কৃষকের জমিও হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, শুধু বদলি করে দায় শেষ করলে প্রকৃত দুর্নীতির বিচার হবে না। জনগণের দাবি, ইউনুসের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও বাজেয়াপ্ত এবং দুদকের মাধ্যমে সরাসরি তদন্ত করা উচিত।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন ভূমি কর্মকর্তার অনিয়ম পুরো ভূমি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে দেয়। তাই বদলির আড়ালে দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা নয়, বরং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, দুর্নীতির শিকড় আরও গভীরে প্রবেশ করবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা চাইছেন, কোনো ধামাচাপা নয়, বরং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ভূমি কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের ওপর এই ধরনের অবিচার করতে সাহস না পায়।