
মনির খান, স্টাফ রিপোর্টার:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টি এইচও) ডা. আবুল হাসনাত পিন্টুর বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, দায়িত্ব অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নানা কর্মকাণ্ডে তার নাম জড়ালেও তিনি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ডা. আবুল হাসনাত পিন্টু অফিস সময়েও হাসপাতালের বাইরে নিয়মিত রোগী দেখেন। এক সময় তিনি মেহেদী ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও রোগী দেখতেন। সেখানে সুমী নামের এক নারী দীর্ঘদিন চাকরি করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই নারীকে একাধিকবার অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং শারীরিকভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। এ ধরনের অভিযোগ আরও একাধিক নারীর ক্ষেত্রেও শোনা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, লোহাগড়ার মাল্লিকপুর গ্রামের এক নারীকে হাসপাতালের একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা হয়। স্থানীয়দের দাবি, কলেজের এক শিক্ষিকার সঙ্গেও তিনি একান্ত সময়ে ধরা পড়েছিলেন। গোপিনাথপুর গ্রামের এক নারীর ওপর জোর করে হাত তোলার অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলহাটার এক সন্তানের মায়ের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের ভিডিও ধারণ করে অ্যাম্বুলেন্স চালক; পরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়। লাহুড়িয়ার এক নারীর বুকে হাত দেওয়ার ঘটনার মীমাংসা হয়েছে একটি ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধির মাধ্যমে বলে জানা যায়।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বাঁকা গ্রামের সোনালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সোনালীর গ্রামের বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে বিয়ে দিতে বাধ্য করে।
এইসব ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির পাশাপাশি দায়িত্ব অবহেলা ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর-বাহিরে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আর্থিক ও উপহার সুবিধা নিয়ে তাদের ওষুধ প্রেসক্রিপশনে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
ডা. আবুল হাসনাত পিন্টুর পারিবারিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তিনি লোহাগড়া উপজেলার ধলাইতলা গ্রামের শেখ আবু জামাল বুলুর ছেলে। তার বাবা কোটাকোল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে নাশকতার মামলার আসামি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাবার রাজনৈতিক পরিচিতি ও প্রভাব খাটিয়ে ডা. পিন্টু দীর্ঘদিন যাবত নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে রেহাই পাচ্ছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. আবুল হাসনাত পিন্টুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।