
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় পৌর সচিব তৌফিকুল আলমের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সিকদার ওসমান গনি বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রিয়াদ তদন্তের দায়িত্ব পান।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) পৌর কার্যালয়ে অভিযোগকারীর এবং অভিযুক্ত পৌর সচিবের উপস্থিতিতে তদন্ত কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর প্রশাসক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বয়ে মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়। যদিও ওসমান গনির অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি, স্থানীয়রা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।
প্রতিবেশী ও রাজনৈতিক নেতারা উল্টো ওসমানের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি, ওসমান গনি দীর্ঘদিন সরকারি রোলার ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, পৌরসভার মূল্যবান দুটি রোড রোলার ও দুটি গার্ভেস ট্রাক অবহেলায় ফেলে রেখেছেন, এছাড়া ঠিকাদারি লাইসেন্স দিয়ে টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন প্রকল্প বানানো, এমনকি পুলিশের হাতে ২ কেজি গাঁজা সহ প্রাইভেট গাড়ি আটক হওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে।
পৌর সচিব তৌফিকুল আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। পৌরসভার কোনো কাজ আমার স্বাক্ষর ছাড়া সম্পন্ন হয় না। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথ জবাব দিয়েছি।”
তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রিয়াদ জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ বলেন, “লোহাগড়া পৌরসভায় দুর্নীতি ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত কোনো কর্মচারীর স্থান নেই। প্রশাসনকে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।”